পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাত হলো শবে কদর। ইসলাম ধর্মে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শবে কদর শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে, যেখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা বা সম্মান। আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়, যার অর্থ সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ রাত।
ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদরের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এ রাতেই মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে পবিত্র কোরআন নাজিল হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাজিল হয়েছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান।
শবে কদরের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং জিকির-আজকারে মগ্ন থাকেন। একই সঙ্গে নিজের অতীতের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অনেকেই কবর জিয়ারত এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।
কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি রমজানের কোন রাতটি শবে কদর। তবে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই রাতের সন্ধান করতে হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের শেষ দশকের বেজোড় রাতে কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শবে কদরের নামাজের জন্য আরবিতে নিয়ত বলা বাধ্যতামূলক নয়। মনে মনে নিয়ত করেও নামাজ আদায় করা যায়। ‘নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া’লা রাকআ’তাই ছালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার’। অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।
লাইলাতুল কদরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজের নিয়ম নির্ধারিত নেই। সাধারণত দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে পড়া যায় ততই উত্তম। পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার ও তওবা করার মাধ্যমে এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেকের মধ্যে বিশেষ কিছু সূরা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়ার প্রচলন থাকলেও এর সুস্পষ্ট ভিত্তি নেই। তবে চাইলে বেশি বেশি সূরা কদর ও সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করা যেতে পারে। রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া উত্তম বলে আলেমরা মনে করেন।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- হে আল্লাহর রসুল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর– তাহলে কোন দোয়া পড়বো? তখন তিনি বললেন, اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي ; যার অর্থ হলোঃ তুমি বলো, হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)
সিএ/এমআর


