প্রধানমন্ত্রীর হাতে থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া নারীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কার্ড হাতে পেলেই সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ মিলছে। এই অর্থ অনেক পরিবারে শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের খরচ চালাতে সহায়ক হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে কার্ড গ্রহণ করেছেন আকলিমা বেগম। ৪০ বছর বয়সী আকলিমা গৃহিণী। তিনি রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে থাকেন। তার স্বামী মোহাম্মদ খলিল দিনমজুর, স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই। দম্পতির তিন সন্তান, একজন ছেলে ও এক মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে, আর ৯ বছর বয়সী মার্জিয়া সহ একটি মেয়ে ও রয়েছে।
আকলিমা বলেন, ‘কার্ডটা পাইয়া আমার অনেক উপকার হইসে। সংসারের একটু সাহায্য হবে। বাচ্চার পড়াশোনার আর সংসারের খরচাও চালানো যাবে।’ তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তারা বাসায় এসে তথ্য সংগ্রহ করে কার্ডের জন্য কোনো টাকা নিতে হয়নি।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা বাসনাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। তিনি গৃহিণী, স্বামী বিল্লাল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা যথাক্রমে দশম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। বাসনা বলেন, ‘অনেক খুশি হয়েছি। টাকাগুলো যদি মাসে মাসে পাই, তাহলে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার পেছনে খরচ করব। খাতা-কলম, বই কিনে দেব। আর পরিবারের প্রয়োজনে কিছু খরচ করব।’
ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা হোসনা আক্তারও কার্ড গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সংসারের অনেক উপকার হবে।’
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর তিনটি বস্তির ১৭ জন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন। এর মধ্যে কড়াইল বস্তির ৪ জন, মিরপুরের ভাষানটেক বস্তির ৫ জন এবং মহাখালীর সাততলা বস্তির ৮ জন নারী রয়েছেন।
কড়াইল বস্তির বউবাজারের বাক্প্রতিবন্ধী নারী সমলাও কার্ড পেয়েছেন। তার স্বামী মোহাম্মদ সাইফুল একটি বেসরকারি ব্যাংকে অফিস সহকারীর কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘কার্ড থেকে পাওয়া কিছু টাকা জমিয়ে ছোট একটা ব্যবসা করার ইচ্ছা আছে।’ দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
সিএ/এমই


