সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পোস্ট করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ডায়েরিতে প্রক্টরিয়াল নীতিমালার অংশে এ নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নতুন এই নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তমত দমন’ এবং ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল নীতিমালার শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যকীয় নির্দেশনাবলির ৯, ১০ ও ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কারও গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে শব্দচয়ন হতে হবে সতর্ক ও দায়িত্বশীল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো যাবে না এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পোস্ট করা যাবে না। এ ধরনের কাজ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি, পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করা যাবে না। তবে প্রক্টরিয়াল বডির অনুমতি নিয়ে নাম ও লোগো ব্যবহার করে পেজ পরিচালনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হওয়ার পর ওই পেজ বা প্ল্যাটফর্মের অ্যাডমিন হিসেবে থাকতে পারবেন না।
এই নীতিমালা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফফান লিখেছেন, ‘সবই ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সমালোচনা করা যাবে না বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কিছু লিখা যাবে না, এটা মানতে পারলাম না। এখানে প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইফুর রহমানও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও কিন্তু ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, তাহলে যাঁরা এর প্রতিবাদ করবেন তাঁদের সবাইকে কি বহিষ্কার করবেন?’
কেমিকৌশল ও পলিনার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশিদ আবরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজের স্বাধীনতা মতো, ইচ্ছা মতো যা ইচ্ছা সোশ্যাল মিডিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে) লিখবে। আপনারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে যা ইচ্ছা তাই করবেন আর শিক্ষার্থীরা আপনাদের নম নম করবে, তা তো হবে না। শিক্ষার্থীরা যা ইচ্ছা লিখবে। যে কোনো অন্যায়, অসংগতি, দুর্নীতি, অবিচার সব কিছুর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা কথা বলবে। কোনো… দরবেশের চোখ রাঙ্গানি, শিক্ষর্থীরা কোনো কিছুতেই প্রভাবিত হবে না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিষয়টি ভাবছে, বাস্তবে তা নয়। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। মূলত সমালোচনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও সতর্ক শব্দচয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ঘটে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করতে পারবে—এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই।
নতুন নিয়ম পুনর্বিবেচনা বা সংস্কারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীদের আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিএ/এমই


