বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের আলুচাষিরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন করে অর্ধেক দামে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলু পরিপক্ব হওয়ায় শ্রমিক লাগিয়ে ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন করছেন কৃষকরা। কেউ কেউ উৎপাদিত আলু বস্তায় ভরে বাজারে বিক্রি করছেন, আবার অনেকেই ভালো দামের আশায় হিমাগার কিংবা বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন।
গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ভালো হলেও মৌসুমের শুরুতেই বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।
আলুচাষিদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে বারবার লোকসানে পড়ে অনেকেই ভবিষ্যতে আলু চাষ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকার আলুচাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুতে লস হয়েছে। ভেবেছিলাম এবার ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এবারও একই অবস্থা। শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাওয়া না গেলে আগামীতে আলু আবাদ করবো না।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, বাজারে বর্তমানে আলুর কেজি ৯ থেকে ১০ টাকা। আর প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। সরকারিভাবে বিদেশে আলু রফতানির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে আলুর আবাদ কমে আসবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান জানান, এ বছর জেলায় আলুর উৎপাদন ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। উৎপাদিত আলুর ভালো বাজার মূল্য পেতে হিমাগারের পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে তিন থেকে চার মাস সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে।
সিএ/এমআর


