ইরানের ব্যবহৃত ড্রোন মোকাবিলা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি দেশ ইউক্রেনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, ইরানের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এ ধরনের অনুরোধ এসেছে।
সোমবার ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এ তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের ‘শাহেদ ড্রোন এবং এ ধরনের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের কাছে অনুরোধ এসেছে। আমরা এসব অনুরোধ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে দেখেছি।’
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণের জীবন এবং ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা আমাদের সাহায্য করছে, তাদের অনুরোধে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে ইউক্রেন প্রস্তুত।’ তিনি জানান, এসব অনুরোধের কিছু ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
ইউক্রেন আশা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে কিয়েভ।
জেলেনস্কি বলেন, ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হামলায় যে ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ইউক্রেনের রয়েছে।
এর আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটনের অনুরোধে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষায় ইউক্রেন ড্রোন ধ্বংসকারী একটি বিশেষ ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে।
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধকৌশল ব্যবস্থা মূলত বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক আক্রমণ, প্রতিরক্ষা এবং সহায়ক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত পদ্ধতি হলো জ্যামিং, যার মাধ্যমে রেডিও বা রাডার সংকেতের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো হয়।
এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা বা বিভ্রান্তিকর সংকেত পাঠানো সম্ভব হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয় যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এই তথ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিএ/এমই


