রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের শক্তি অনেকটাই কমে যায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের টেবিলে দই-চিড়া একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় খাবার। হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় অনেকেই রোজা ভাঙেন এই খাবার দিয়ে। তবে প্রশ্ন ওঠে, শুধু দই-চিড়া খেলে কি শরীর সারাদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ হয়?
চিড়া মূলত চাল থেকে তৈরি হওয়ায় এটি কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস। সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দ্রুত পূরণে এটি সহায়তা করে। অন্যদিকে দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই দুইয়ের সমন্বয় শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধুমাত্র দই-চিড়া সম্পূর্ণ সুষম খাবার নয়। এতে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এছাড়া মিষ্টি দই ব্যবহার করলে অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু এক বাটি দই-চিড়া খেলে সারাদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে।
রোজা ভাঙার পর শরীরের প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও তরল। তাই ইফতারে শুধু দই-চিড়া খাওয়ার পরিবর্তে এর সঙ্গে অন্য পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করা উচিত। এতে শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দই-চিড়ার সঙ্গে বিভিন্ন ফল যেমন কলা, আপেল বা পেঁপে যোগ করা যেতে পারে। এতে ফাইবার, ভিটামিন ও অতিরিক্ত শক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া বাদাম বা চিয়া সিড যুক্ত করলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিনের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়।
ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি বা লেবু-পানি পান করাও জরুরি। দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতার পর শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ ও উপাদান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়।
চিড়া উচ্চ গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই দইয়ের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার যুক্ত করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি মিষ্টি দইয়ের পরিবর্তে টকদই ব্যবহার করা বেশি উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দই-চিড়া ইফতারের জন্য একটি ভালো ও হালকা খাবার হতে পারে। তবে একে একমাত্র খাবার হিসেবে না রেখে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো। পুষ্টিতে ভারসাম্য বজায় রাখলেই রোজার সময় সুস্থ থাকা সম্ভব।
সিএ/এমআর


