রাজশাহীতে এক কলেজশিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মারধরের ঘটনার পর বুধবার (৪ ডিসেম্বর) থানায় মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষক।
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জুয়েল রাজশাহীর শাহ মখদুম কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছাত্রদল নেতা হলেন শাহ মখদুম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ ওরফে শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ওরফে চন্দন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক মাস ধরে আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আবু সুফিয়ান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। শিক্ষক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) তাঁকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় তাঁর বাসার সামনে একা পেয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং আবারও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
শিক্ষকের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা তাঁকে চড়থাপ্পড় ও মারধর করে সেখান থেকে চলে যান।
এ ঘটনায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহ মখদুম কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষক ও কর্মচারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তাঁরা অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানান।
অন্যদিকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজশাহী নগরের নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আবু সুফিয়ান। সেখানে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং দীর্ঘদিন ধরে দলটির পক্ষে কাজ করে আসছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদা দাবি ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিএ/এমই


