স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই আশপাশের মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি থেকে নিজেদের স্ক্রিন আড়াল রাখতে আলাদা প্রাইভেসি ফিল্টার ব্যবহার করেন। তবে এসব প্লাস্টিক ফিল্টার ব্যবহারে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে স্ক্রিন দেখতে পারেন না, আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের কার্যকারিতাও কমে যায়।
এই সমস্যার সমাধানে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। তাদের নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা স্মার্টফোনে যুক্ত হয়েছে ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ নামের একটি বিল্ট–ইন সুবিধা, যা আলাদা ফিল্টার ছাড়াই স্ক্রিনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিসপ্লের প্রতিটি পিক্সেল থেকে নির্গত আলোর দিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে একই স্ক্রিনে কিছু তথ্য সবার জন্য দৃশ্যমান রাখা সম্ভব হলেও নির্দিষ্ট কিছু তথ্য কেবল ব্যবহারকারীর চোখেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ফোনের সেটিংসে গিয়ে ব্যবহারকারীরা ঠিক করে দিতে পারবেন কোন অ্যাপ বা নোটিফিকেশন ব্যক্তিগত থাকবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি বন্ধুর সঙ্গে ছবি দেখেন, তখন কোনো ব্যক্তিগত বার্তা বা ওষুধ সংগ্রহসংক্রান্ত নোটিফিকেশন এলে সেটি পাশের ব্যক্তি দেখতে পাবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন বাজার এখন অনেকটাই পরিণত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নতুন ধরনের যুগান্তকারী ফিচার ঘন ঘন দেখা যায় না। একসময় টাচস্ক্রিন, সেলফি ক্যামেরা বা রাইডশেয়ার অ্যাপের মতো প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন এনেছিল। প্রাইভেসি ডিসপ্লে প্রযুক্তিও তেমন নতুন প্রজন্মের একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এই প্রযুক্তি শিগগিরই সব মডেলে যুক্ত হচ্ছে না। বিপুল পরিমাণে এ ধরনের ডিসপ্লে উৎপাদন করতে সময় লাগতে পারে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নতুন ও ব্যতিক্রমী ফিচার প্রথমে উচ্চমূল্যের ডিভাইসেই যুক্ত করে থাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলজি ইলেকট্রনিক্স দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের স্ক্রিন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গোপনীয়তা ফিল্টার–সংক্রান্ত একটি পেটেন্টের আবেদনও করেছে তারা। যদিও এলজি বর্তমানে স্মার্টফোন তৈরি করে না, তবে ভবিষ্যতে অন্য নির্মাতাদের কাছে এই ধরনের ডিসপ্লে সরবরাহ করতে পারে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, অ্যাপল আপাতত স্মার্টফোনের তুলনায় ল্যাপটপে গোপনীয়তা প্রযুক্তি যুক্ত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এস২৬ সিরিজে শুধু গোপনীয়তা নয়, ক্যামেরা প্রযুক্তিতেও উন্নতির দাবি করেছে স্যামসাং। বিশেষ করে কম আলোয় তোলা ছবির মান উন্নত করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে কোয়ালকমের নতুন প্রজন্মের স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসরের কাস্টম সংস্করণ এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব আলোকসংগ্রহ প্রযুক্তি।
ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। সেন্সরের তাৎক্ষণিক তথ্য ব্যবহার করে ভিডিও স্থিতিশীল রাখার প্রযুক্তি এতে যুক্ত করা হয়েছে।
নকশার দিক থেকেও নতুন সিরিজ আগের তুলনায় আরও পাতলা ও হালকা করা হয়েছে। গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার পুরুত্ব ৭ দশমিক ৯ মিলিমিটার এবং ওজন ২১৪ গ্রাম। তুলনায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের পুরুত্ব ৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ওজন ২৩৩ গ্রাম। এস পেন স্টাইলাস ভেতরে থাকা সত্ত্বেও স্যামসাংয়ের ডিভাইসটি তুলনামূলক হালকা।
সব মিলিয়ে এস২৬ সিরিজে আগের জনপ্রিয় ফিচারগুলোর উন্নত সংস্করণ যোগ করা হয়েছে। তবে প্রাইভেসি ডিসপ্লে প্রযুক্তিই নতুন সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


