রোজা পালন বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা কমানো এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে অনেকেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণ করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা কি সত্যিই মস্তিষ্কের ওপর কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সঠিক নিয়ম মেনে এবং সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে তা শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে থাকলে শরীরে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ধীরে ধীরে শেষ হতে শুরু করে। তখন শরীর শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে চর্বি পোড়াতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় কিটোন বডি নামের কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়।
এই কিটোনগুলোর মধ্যে বিটা-হাইড্রক্সি বিউটাইরেট নামের একটি উপাদান মস্তিষ্কের জন্য কার্যকর জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি শুধু শক্তি সরবরাহই করে না, বরং মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় রাখতেও সহায়তা করে।
গবেষকদের মতে, যখন মস্তিষ্ক গ্লুকোজের পরিবর্তে কিটোন থেকে শক্তি নিতে শুরু করে, তখন অনেক মানুষ বেশি মনোযোগ, পরিষ্কার চিন্তাভাবনা এবং কম ক্লান্তি অনুভব করেন। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনকে মেটাবলিক সুইচ বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় শরীরে অটোফ্যাজি নামের একটি প্রক্রিয়াও সক্রিয় হতে পারে। অটোফ্যাজি হলো কোষের স্ব-পরিষ্কার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান সরিয়ে ফেলতে পারে।
মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ আলঝাইমার বা পার্কিনসনের মতো কিছু নিউরোডিজেনারেটিভ রোগে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন জমে থাকতে দেখা যায়। যদিও এ বিষয়ে মানুষের ওপর আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন, তবুও প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা পাওয়া গেছে যে অটোফ্যাজি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিটোন থেকে পাওয়া শক্তি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় অনেক সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং মানসিক ক্লান্তি বা ব্রেইন ফগ কম অনুভূত হতে পারে।
তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, যাদের খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা আছে, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, বয়স্ক বা দুর্বল ব্যক্তি এবং যারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


