অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে মানিকগঞ্জে এ বছর সরিষা উৎপাদনে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা সরিষার হলুদ রঙে ভরে গেছে চারপাশ। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মুখে দেখা যাচ্ছে সন্তুষ্টির হাসি।
বর্তমানে মাঠে সরিষা কাটার পাশাপাশি মাড়াই, শুকানো এবং বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পরিবারের নারী সদস্যরাও কৃষিকাজে অংশ নিচ্ছেন। ফলে গ্রামাঞ্চলে এখন সরিষা ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই আশাবাদী। মনোজ মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, ‘খেতের ফসল দেখে আমার মন ভরে উঠেছে। সরিষার ফলন এবার অনেক ভালো হয়েছে।’
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বীনদার মাস্টারও পৈতৃক জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর এমন ভালো ফলন দেখে তিনি খুবই আনন্দিত। কৃষিকাজের মাধ্যমে অবসর সময় কাটাতে পারছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাঠের কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সুলতানা আক্তার নামের এক নারী বলেন, ‘এত সুন্দর সরিষা হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু করেছি এবং বেশ ভালো লাভ পাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, সরিষা তোলার পর একই জমিতে ধান লাগানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
কৃষক মহিউদ্দিন ও লায়লা বানু দম্পতিও এবার সরিষা চাষে ভালো ফলনের আশা করছেন। তাদের মতে, অনেক দিন পর একসঙ্গে কিছু নগদ অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা তাদের পরিবারে স্বস্তি এনে দিতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শাজাহান সিরাজ জানিয়েছেন, সরিষা উৎপাদনে মানিকগঞ্জ বর্তমানে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জেলা। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৬৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জেলায় প্রায় ৯৫ হাজার ২৭৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হতে পারে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৭১৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ফলন কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিএ/এমআর


