কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতের দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া (৩৫)কে তাঁর অফিসকক্ষে হত্যা করার ঘটনায় তাঁর স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান, যিনি এখন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসমার সহকর্মী দুই শিক্ষক—সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস—দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ফজলুর রহমান আসমাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসমা সাদিয়া সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন বিভাগীয় অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছিলেন। এর ফলে ফজলুরসহ তিনজনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আসমার নির্দেশ অমান্য এবং অর্থ তছরুপের ঘটনায় ফজলুরকে একসময় অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছিল, যা নিয়ে হাবিবুর ও বিশ্বজিৎ ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের প্ররোচনায় ফজলুর ধারালো ছুরি নিয়ে অফিসকক্ষে প্রবেশ করে আসমাকে হত্যা করেন।
ময়নাতদন্তে আসমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলায় সজোরে আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যায় আসমার জানাজা কুষ্টিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, সহ-উপাচার্য ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিসহ হত্যাকারীর দ্রুত বিচার, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, আয়ের স্বচ্ছতা এবং কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সিএ/এমই


