ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানোর অনুমতিও দেননি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় স্টারমারকে ‘লুজার’ বা পরাজিত ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) চলমান সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন জনগণকে আশ্বস্ত করতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্টারমার। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থে শান্ত ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দেওয়া। যত চাপই থাকুক, আমাদের মূল্যবোধ ও নীতির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর শক্তি থাকতে হবে।’
তার এই বক্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার বার্তা হিসেবে দেখছেন। স্টারমার বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং কূটনৈতিক পথে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যুক্তরাজ্য প্রথম দফার হামলায় অংশ নেবে না। এটি ভেবে-চিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত, যা জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং আমি এই সিদ্ধান্তে অটল।’
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বন্ধুদের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্টারমারের প্রতি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেই আলোচনায় তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘লুজার’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত এক ডিনারে তিনি স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে।
তবে কয়েক মাস আগেও দুই নেতার সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ছিল। গত জুলাই মাসে স্টারমারের পরিবার ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তাকে একজন ‘উইনার’ বা বিজয়ী হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে শুরু করেছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
সিএ/এএ


