কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষককে নিজ কার্যালয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে নারী ও কন্যাদের কোথাও নিরাপত্তা নেই। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে নারীদের স্বাধীন চলাচলের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
সংগঠনটি মনে করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া নিজ দপ্তরে নিহত হন। একই সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে শিক্ষকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
সিএ/এমই


