কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মোতাহার হোসেন (৩৬) নামের আরও এক গাড়িচালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায়।
মোতাহারের ভাতিজা মো. হৃদয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে নেওয়া হচ্ছে এবং শুক্রবার ( ৬ ডিসেম্বর) সকালে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ কলাতলী আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের ও আবদুর রহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে কলাতলী বাইপাস সড়কের ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামে নবনির্মিত একটি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে চারটি বসতবাড়ি ও একটি গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্যারেজে থাকা প্রায় ৪০টি গাড়িও পুড়ে যায়। অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
নিহত আবদুর রহিম একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন। গ্যাসপাম্পটির পাশেই তাঁর গ্যারেজটি অবস্থিত ছিল। আগুনে তাঁর মালিকানাধীন চারটি জিপ গাড়ি পুড়ে যায়। ঘটনার সময় তিনি ও আবু তাহের গ্যারেজে অবস্থান করছিলেন। আবু তাহের পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
ঘটনার পর লাইসেন্স ছাড়া গ্যাসপাম্প স্থাপনের অভিযোগে ১ মার্চ রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাম্পটির মালিক ও রামু উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি করেন বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাসপাম্প স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমি উদ্দিন জানান, পাম্পমালিক এন আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


