শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহে দুই দিন বসে এক বিশেষ হাট, যেখানে বিক্রি হয় খাঁটি মহিষের টক দই। বাইরে থেকে সাধারণ গ্রামীণ বাজার মনে হলেও ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি মাটির হাঁড়ি, ঢাকনা দিয়ে ঢাকা। হালকা ঢাকনা উন্মুক্ত হলে ভেসে আসে দুধের প্রাকৃতিক ঘ্রাণ।
হাটে প্রতিকেজি দই বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। স্থানীয়রা এবং দূরদূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এখানে আসেন শুধুমাত্র এই দই কিনতে।
দইটি সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কোনো কৃত্রিম উপকরণ, অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। প্রথমে মহিষের দুধ পরিষ্কার করে মাটির হাঁড়িতে রাখা হয়। তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ঘন টক দই তৈরি হয়। মহিষের দুধের উচ্চ ফ্যাট ও ঘনত্বের কারণে আলাদা জ্বাল বা বীজ মেশানো প্রয়োজন হয় না।
ঝগড়ারচরের আবদুল হালিম প্রায় ৩০ বছর ধরে হাটে দই বিক্রি করছেন। তাঁর তিনটি মহিষ থেকে দুই দিনে প্রায় ২৪ কেজি দুধ সংগ্রহ করে দই তৈরি করা হয়। এই দই স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও পৌঁছে যায়।
এ অঞ্চলের মানুষ ভাত, চিড়া-মুড়ি বা খেজুরের গুড়ের সঙ্গে দই খেতে পছন্দ করেন। গরমের দিনে দই, পানি ও চিনি মিশিয়ে তৈরি ঘোল খুব জনপ্রিয়। রমজানের সময় ইফতারের জন্যও এই টক দই বিশেষভাবে চাহিদা পায়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভনী আক্তার বলেন, “ইফতারের পর এই দই খেলে শরীর ঠান্ডা হয়, আর এর ঘ্রাণ ও স্বাদই আলাদা।”
সিএ/এমই


