কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা থামছে না। গতকাল রাতের ঘটনায় কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক যাত্রীকে মাথায় আঘাত পেতে হয়েছে। এর আগের রাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় পাথরের আঘাতে রেলের কর্মী ছাবের আহমেদ (৫২) গুরুতর আহত হন এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত এক বছরে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন রুটে অন্তত ১৪৪ বার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, এতে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হামলা কক্সবাজার রুটে, যেখানে ৩৭ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে।
রেলওয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হলেও কার্যকর ফলাফল আসছে না। কক্সবাজার রুটে ট্রেন যাত্রীদের কাছে নিরাপদ ও জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম হলেও, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি।”
বর্তমানে কক্সবাজার রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে—ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দুই জোড়া। ছুটি বা যাত্রীর চাহিদা বৃদ্ধির সময় বিশেষ ট্রেনও চালানো হয়।
রেলওয়ে আইন, ১৮৯০-এর ১২৭ ধারায় বলা হয়েছে, যাত্রীদের ক্ষতি হতে পারে জানেও কেউ পাথর নিক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ১০ বছরের জেল দেওয়া হবে। তবে আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সাঈদ তালুকদার বলেন, “সড়কপথে যাতায়াত ঝক্কিঝামেলার কারণে মানুষ রেলপথকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। পাথর নিক্ষেপের পেছনে একটি মহলের স্বার্থও থাকতে পারে, যাতে যাত্রীদের ট্রেনে যাতায়াত নিরুৎসাহিত করা হয়।”
সিএ/এমই


