চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে জামায়াতের কর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৮–৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী হিসেবে হাজির হয়েছেন নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন।
মামলায় জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তাঁর তিন ভাই—ইমরান হোসেন, মো. বাপ্পা ও মো. তৌফিক—এবং তাঁদের বাবা জসিম উদ্দিন ছাড়াও মো. তুষার ও শাহীন রেজাকে আসামি করা হয়েছে। সব আসামির বাড়ি হাসাদহ এলাকায়। ঘটনাস্থল গত শনিবার রাতে সংঘর্ষ ঘটে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ জানান, মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসিম উদ্দীনসহ গ্রেপ্তার তিনজন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দী। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান দাবি করেন, ময়েন উদ্দীন সংঘর্ষের অন্তত দেড় ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইচ্ছাকৃতভাবে ময়েন উদ্দীনকে আসামি করেছে। সংঘর্ষে আমাদের দলের লোকজনও গুরুতর আহত হয়েছেন।’
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক বিবাদ চলছিলো মৃত হাফিজুরের ভাই মফিজুর রহমান ও আসামিদের মধ্যে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাদীর ছেলে মাহফুজুর রহমান, দুই ভাই মফিজুর ও হাফিজুর রহমান ইফতার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। হাসাদহ কামিল মাদ্রাসার সামনে আসামিরা আগুন, লোহার রড, চায়নিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। মফিজুর দৌড়ে পালানোর সময় ইমরান হোসেন চায়নিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। হাফিজুরকে আটকাতে মেহেদী হাসান কুড়াল দিয়ে তাঁর চোখের ওপর কোপ দেন। বাপ্পা ও তৌফিক রড দিয়ে আঘাত করেন।
বাদীর ছেলে মাহফুজুর এগিয়ে গেলে তুষার ও শাহীন রেজা লোহার রড দিয়ে পেটান। এতে তিনজন গুরুতর জখম হন। আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে যশোর ও ঢাকার পথে হাফিজুর মারা যান। মফিজুর ও মাহফুজুর বর্তমানে ঢাকার পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সিএ/এমই


