রমজানে সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় অনেকেই একাধিক জিলাপি খেয়ে থাকেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডুবোতেলে ভাজা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এই খাবার নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জিলাপিতে প্রচুর চিনি থাকে, যা দ্রুত রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে আবার তা কমেও যায়। ফলে কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সুস্থ মানুষের জন্যও অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
এ ছাড়া জিলাপি উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার। নিয়মিত বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। বাড়তি ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
জিলাপি তৈরির সময় তেলকে উচ্চ তাপে গরম করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলের গঠনগত পরিবর্তন ঘটে। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে, যা রক্তনালির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে অনেক দোকানেই ব্যবহৃত তেল নতুন তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পুনরায় ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই রোজ ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার না রেখে ফল, সবজি ও পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত।
জিলাপি পুরোপুরি বাদ দেওয়া জরুরি না হলেও তা খাওয়া উচিত সীমিত পরিমাণে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ইফতারে দুই-একটি চিকন জিলাপি খেতে পারেন, তবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে তা পুনর্ব্যবহৃত তেলে তৈরি নয়। চিনির পরিবর্তে গুড়ের জিলাপি তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ক্ষতিকর হলেও সেটিও নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস রমজানে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ইফতারে রসনার তৃপ্তির পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
সিএ/এমআর


