ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এবং নির্বাচন-পরবর্তী এক সপ্তাহে দেশে সহিংসতার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ২২৬ জন আহত হয়েছেন। ১৩ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি সময়কালে সংঘটিত এসব ঘটনায় অন্তত ১৫টি স্থানে অগ্নিসংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার প্রভাব পড়েছে আটটি জেলায়। ‘সকল প্রাণের নিরাপত্তা (সপ্রান)’ নামের একটি সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) ‘ম্যাপিং ইলেক্টোরাল ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ: এভিডেন্স ফ্রম পোলিং ডে অ্যান্ড ইটস আফটারম্যাথ, ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ইত্তেফাক, নিউ এজ এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ভৌগোলিক বিস্তৃতি তুলে ধরা হয়েছে। সংঘর্ষ, হামলা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ, হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মতো সূচকের ভিত্তিতে আটটি জেলাকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, ভোলা, গাইবান্ধা ও নোয়াখালী।
এর মধ্যে বাগেরহাট, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ভোলা ও গাইবান্ধা জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগেরহাটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক প্রার্থীর সমর্থক নিহত হন। মুন্সিগঞ্জে নিজ বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ময়মনসিংহে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ১২ বছরের এক কিশোর নিহত হয়।
সংকটাপন্ন এলাকা, সহিংসতার মাত্রা এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ করে সপ্রান আক্রান্ত জেলাগুলোকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে। প্রতিবেদনে বাগেরহাটকে সবচেয়ে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলাকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা বিভাগ এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে সহিংসতা প্রতিরোধে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পটগুলোতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিএ/এমই


