দখল ও দূষণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী। নদীর পাড় দখলের পর এবার নদীর মাঝখানেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরের পুরানথানা এলাকায় নরসুন্দা নদীর প্রায় মাঝ বরাবর একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সেখানে ছয়তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরেই নদীর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দুই দিনের মধ্যে নির্মাণাধীন স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন এবং বলেন, নরসুন্দা নদী কিশোরগঞ্জবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। নদী দখলের কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ভবন নির্মাণে উদ্যোগী পক্ষ দাবি করেছে, পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নিজেদের জায়গাতেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডসহ একাধিক আইন লঙ্ঘন করে নদীর মাঝখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য অনুমোদন স্থগিত করে অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণশ্রমিকরা সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অপসারণের কাজ করছেন। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নরসুন্দা নদীতে ময়লা ও বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটি আরও দূষিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশকর্মীরা জানান, অতীতে পুনঃখনন প্রকল্প নেওয়া হলেও নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরে আসেনি। তারা দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সিএ/এমআর


