ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি)। সংগঠনটি বলছে, তারা ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত সমর্থন করে না এবং চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
জিউইশ ভয়েস ফর পিস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ তৃণমূলভিত্তিক প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা ও মুক্তির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতার পাশাপাশি তারা বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিউইশ ভয়েস ফর পিস গত রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অনৈতিক ও অবৈধ যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে। এই আক্রমণ এমন একটি অন্তহীন যুদ্ধের ইন্ধন যোগাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন পারে। আমরা ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়াই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজ নীতির বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করি।
সংগঠনটি দাবি করেছে, ইরানের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কয়েক দশক ধরে নিজেদের সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এসব আন্দোলনের জেরে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত বা গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন আরও জোরদার করতে সহায়ক হয়েছে। বিদেশি আক্রমণ বা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কোনো দেশের জনগণ স্বাধীনতা বা গণতন্ত্র অর্জন করতে পারে না বলেও সংগঠনটি মত দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর সময় লেবানন, ইরান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে বোমা হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরান, ইরাক, সিরিয়া, নাইজেরিয়া ও ইয়েমেনে বোমা হামলা চালায়, ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং অভিবাসী ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ ওঠে।
সংগঠনটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ গণহত্যা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায় না। তারা বিশ্বাস করে, ইরানি জনগণ, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিশ্বের সব মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে, যা কোনো যুদ্ধবাজ নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি পরিবর্তনে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিএ/এএ


