চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার হাসাদহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নিহত ব্যক্তি হাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি জীবননগর শহরের ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই। নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনার জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তাঁর ভাতিজা মাহফুজুর রহমান, জামায়াত কর্মী খায়রুল ইসলাম, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান এবং তাঁর বাবা জসিম উদ্দিন। তাঁরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ারুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনার মামলায় তাঁদের আসামি করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের ভাতিজা মাহফুজুর রহমান হাসাদহ বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান ও তাঁর সমর্থকেরা ১৩ ফেব্রুয়ারির ঘটনার জেরে তাঁকে মারধর করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান সমর্থকদের নিয়ে বাজারে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক–বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালান।
সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে প্রথমে যশোরের ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির মরদেহ আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের পর নিজ এলাকায় লাশ দাফন করা হবে।’
সিএ/এমই


