বরগুনার আমতলীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ছিল। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খানের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা–কর্মী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মো. মতিন খানের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে যুবলীগের কর্মী টিপু ও মশিউর রহমান লিটন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানোর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খান হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল, ভাঙা, দখলকৃত বা পোড়া অবস্থায় থাকা দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার টাঙিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে হবে। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আমরা হামলা-মামলায় ভয় করি না। নেত্রী আদেশ দিলে আমরা আবারও রাজপথে নামব।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমতলী উপজেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু সরকারিভাবেই এই দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তারা এখন চাইছে রাষ্ট্রে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। সরকারের সব পদক্ষেপকে তারা ম্লান করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা দলীয় নেতা–কর্মীদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের দলীয় নির্দেশনা রয়েছে কোনো ধরনের মব সৃষ্টি না করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের পাওয়া গেলে তাঁদেরকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য। তাঁদেরকে ধরার জন্য পুলিশও তৎপর রয়েছে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ কাজে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বরগুনা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর থেকে দলটির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁদের একটি অংশ আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
সিএ/এমই


