চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। মুখে কাপড় বেঁধে মোটরসাইকেলে এসে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার পর হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। পুলিশ ঘটনার একটি ছাড়া বাকি তিনটির হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত বুধবার পর্যন্ত রাউজানে মোট ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত। এসব ঘটনার চারটিতে মোটরসাইকেলে করে চারজনকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ বুধবার রাতে যুবদল নেতা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় নাঈম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, তিনি সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুখোশধারী কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায়, অথচ বাজার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অবস্থিত।
নিহত আবদুল মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এর আগেও তাঁর স্বামীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেবার বেঁচে গেলেও এবার আর রক্ষা পাননি। মুখোশ পরে এসে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’
পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে গত ৫ জানুয়ারি যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও একই কৌশলে হত্যা করা হয়েছিল। তিনিপূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত পালিয়ে যায়। হত্যার স্থান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় বিএনপি নেতা আবদুল হাকিমকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মোটরসাইকেলে এসে গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ কমে গেছে। রাউজানে ১৮ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি, কখনো ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতদের অধিকাংশই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জানে আলম হত্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা এলাকায় ফেরেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
সিএ/এমইচট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। মুখে কাপড় বেঁধে মোটরসাইকেলে এসে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার পর হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। পুলিশ ঘটনার একটি ছাড়া বাকি তিনটির হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত বুধবার পর্যন্ত রাউজানে মোট ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত। এসব ঘটনার চারটিতে মোটরসাইকেলে করে চারজনকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ বুধবার রাতে যুবদল নেতা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় নাঈম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, তিনি সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। মুখোশধারী কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায়, অথচ বাজার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অবস্থিত।
নিহত আবদুল মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এর আগেও তাঁর স্বামীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেবার বেঁচে গেলেও এবার আর রক্ষা পাননি। মুখোশ পরে এসে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’
পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে গত ৫ জানুয়ারি যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও একই কৌশলে হত্যা করা হয়েছিল। তিনিপূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত পালিয়ে যায়। হত্যার স্থান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় বিএনপি নেতা আবদুল হাকিমকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মোটরসাইকেলে এসে গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ কমে গেছে। রাউজানে ১৮ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি, কখনো ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতদের অধিকাংশই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জানে আলম হত্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা এলাকায় ফেরেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সিএ/এমই


