বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটির উদ্যোগে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার ৬৩ নিউস্কাটনস্থ বিয়াম অডিটরিয়ামে বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম এবং অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান ও সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম (অব.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রফেসর মাহবুব আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হাকিম আজিজ (অব.) ও প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোরআনের আলো বিস্তার, আলোকিত সমাজ গঠন, সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্য বিভিন্ন সময় বিদগ্ধ মনীষীদের অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে। এ বছরের বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদানের জন্য ৯ জন মনীষীকে মনোনীত করা হয়েছে।
অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননাপত্রপ্রাপ্তরা হলেন: ইসলামী শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় প্রফেসর মাহবুব আহমদ, মানবকল্যাণে অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, মহিলাদের মাঝে দ্বিনি দাওয়াত বিস্তারে প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম, জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এ অবদানে নাহিদ ইসলাম এমপি; আদর্শ প্রশাসক হিসেবে শাহ আবদুল হান্নান (মরণোত্তর) ও এ জেড এম শামসুল আলম (মরণোত্তর), কুরআন ও দীন প্রচারে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম (মরণোত্তর), কুরআনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমান (মরণোত্তর)।
মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম (অব.) বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা শেখায়, যা সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান। তিনি ঘরে ঘরে কুরআন শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ নানাবিধ সংকটের সম্মুখীন, যার অন্যতম প্রধান কারণ অনৈক্য ও বিভক্তি। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের আলোকে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আল্লাহর রজ্জু’ দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে। ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক হলেও ইসলাম প্রতিষ্ঠা, কুরআনের শিক্ষা প্রসার এবং উম্মাহর কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হাকিম আজিজ (অব.) বলেন, একটি শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতি গঠনে কুরআনের শিক্ষা অপরিহার্য। কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করলে নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব। তিনি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রফেসর মাহবুব আহমদ মরহুম প্রশাসক ও লেখকদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কুরআনের অনুধাবন আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, সোসাইটির উপদেষ্টা ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি বাবদ নগদ অর্থ ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান ইফতার ও ডিনারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
সিএ/এএ


