ইসলামে রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। তবে শরিয়তে বিশেষ কিছু অবস্থার জন্য রোজার বিধানে শিথিলতার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মায়েদের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
দুগ্ধদানকারিণী মা যদি রোজা রাখার ফলে সন্তানের দুধ না পাওয়া, মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর আশঙ্কায় পড়েন, তাহলে তিনি রোজা ভেঙে দিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে তার ওপর গুনাহ হবে না, তবে পরবর্তীতে ওই রোজাগুলো কাজা আদায় করতে হবে।
হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার বিধান শিথিল করেছেন এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণীর জন্যও রোজার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সন্তানের জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে।
শরিয়ত অনুযায়ী, সন্তানের স্তন্যপানের সর্বোচ্চ সময় দুই বছর। দুই বছরের বেশি সময় বুকের দুধ পান করানো বৈধ নয়। এই বিধান কোরআনুল কারিমেও উল্লেখ রয়েছে। তাই সন্তানের বয়স ও শারীরিক অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়।
বর্তমান সময়ে শিশুর পুষ্টির জন্য বিকল্প খাবার ও গুঁড়া দুধ সহজলভ্য হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে যাতে হঠাৎ দুধ ছাড়ানো শিশুর জন্য কষ্টের কারণ না হয়, সে জন্য আগে থেকেই ধীরে ধীরে শিশুকে অন্য খাবারে অভ্যস্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


