বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সংসদীয় আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর চেয়ে ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে। তিন আসনে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০৩ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন, আর ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯১। অর্থাৎ ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২টি।
গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রধান কারণ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক ও তরুণরা উল্লেখ করেছেন, জুলাই সনদে পাহাড়ের মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গীকার বা সংস্কারের উল্লেখ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সংক্রান্ত অস্পষ্টতা ও ভীতি থেকে মানুষ ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
ফলাফল:
- রাঙামাটি: না ভোট ১ লাখ ৭৯,৮০৫, হ্যাঁ ৭১,৭১৯
- বান্দরবান: না ভোট ৯০,১৫৬, হ্যাঁ ৭১,৪১৭
- খাগড়াছড়ি: না ভোট ১ লাখ ৫৫,৯৪২, হ্যাঁ ১ লাখ ৪৪,৩৫৫
বান্দরবানের মারমা ভাষার লেখক মংক্য শোয়েনু নেভী উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান পার্বত্য এলাকায় বিরূপ ধারণা তৈরি করেছে। ফলে জুলাই সনদে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়গুলো স্পষ্ট না থাকায় মানুষ ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক ও ছাত্র সমাজের অভিমত অনুযায়ী, গণভোটে ‘না’ ভোট মূলত সংস্কারের অনিশ্চয়তা ও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উৎসারিত হয়েছে। যদিও পার্বত্য আসনগুলোতে ‘না’ ভোট জয়ী হলেও, দেশের সার্বিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়েছে; সারা দেশে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ ভোট হ্যাঁ, ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ ভোট না।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা পাহাড়ের মানুষকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। এই কারণে তারা নিজেদের অধিকার ও ভাষা, সংস্কৃতি সংরক্ষণের দাবিতে ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
সিএ/এমই


