রমজান মাস উপলক্ষে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় লম্বা ছুটি শুরু হওয়ায় অনেক শিশু দীর্ঘ সময় ঘরে অবস্থান করছে। এই সময়ে শিশুরা সহজেই একঘেয়েমিতে ভুগতে পারে কিংবা অতিরিক্তভাবে মোবাইল ফোন ও স্ক্রিননির্ভর হয়ে উঠতে পারে। তাই ছুটির সময় শিশুদের ব্যস্ত ও আনন্দে রাখার দায়িত্ব পরিবারকেই নিতে হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘ ছুটিতে শুধু পড়ার চাপ নয়, বরং সৃজনশীল ও আনন্দমুখর কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুর মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি। বাড়ির কাজ করার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ ও পরিবারে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে হবে।
শিক্ষক হাসিনা মোস্তাফিজ বলেন, লম্বা ছুটিতে শিশুদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। এ সময় তারা মা-বাবার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটাতে পারে, নতুন কোনো দক্ষতা শিখতে পারে কিংবা অনলাইনে স্বল্পমেয়াদি কোর্সে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে ঘরের ছোটখাটো কাজে যুক্ত করলে শিশুর দায়িত্ববোধও বাড়ে।
প্রাথমিক বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ধৈর্য কম থাকায় তাদের সঙ্গে পরিবারের বড়রা বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতে পারেন। মেমোরি গেম, অরিগ্যামি বা চরিত্রাভিনয়ের মাধ্যমে সময় কাটালে শিশুর আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ে বলে মত শিক্ষকদের।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রতিদিন শিশুকে নিয়ে কিছু সময় বাইরে কাটানো প্রয়োজন। এতে শিশুর সামাজিকতা, আচরণ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা ও বাগান করার মতো কাজে যুক্ত হলে শিশুর ছুটির সময়টি হয়ে উঠবে অর্থবহ ও আনন্দদায়ক।
সিএ/এমআর


