রমজান মাসে সিয়াম সাধনা ও ইবাদত পালনের জন্য শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের ভিন্নতার কারণে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সুস্থ ব্যক্তিরা সাধারণত সহজেই এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে কিছু প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। অনেকের অজান্তেই ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকতে পারে, যা রোজার সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই আগেভাগে নিজের শারীরিক অবস্থা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
রমজানের প্রস্তুতিতে রক্তের শর্করা পরীক্ষা, সিবিসি, লিপিড প্রোফাইল, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা উপকারী। পাশাপাশি থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা বাড়তে পারে, তাই এ পরীক্ষাও জরুরি। ভিটামিন ডি ও বি১২-এর ঘাটতি থাকলে অবসাদ ও পেশিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখা এ ধরনের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা রমজানে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। ৪০ বছর বয়সের পর বছরে অন্তত একবার রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
সিএ/এমআর


