পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেছেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয় দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই একটি অসাধারণ অর্জন, তবে রোনালদোর ক্যারিয়ারের মূল মানদণ্ড নয়। মার্তিনেজের মতে, রোনালদোর প্রভাব ও ফুটবলে তার লিগ্যাসি ইতিমধ্যেই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো এখন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতলেও বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। বিশ্বকাপ ট্রফি না থাকায় প্রায়ই তার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকে, বিশেষ করে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
মেসি বা রোনালদো—কে সেরা, এই বিতর্ক দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে চলে। ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে জয়ী হওয়ার পর বিতর্ক কিছুটা থেমে যায়। তবে রোনালদো–ভক্তদের মধ্যে অনেকে এখনও তাকে সর্বকালের সেরা মনে করেন। ৪১ পেরিয়েও রোনালদো ছন্দ ও ফিটনেস ধরে রেখেছেন, এবং ফুটবলের অনেক রেকর্ড ভেঙেছেন।
জাতীয় দলের অনুশীলনে মার্তিনেজ রোনালদোর নিষ্ঠা ও পেশাদারি কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি বলেন, উন্নতির প্রতি রোনালদোর অদম্য মনোযোগই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। পর্তুগাল ফুটবল সামিট পডকাস্টে মার্তিনেজ বলেন, সে (রোনালদো) বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক, সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হবে।
মার্তিনেজ আরও বলেন, রোনালদোর অবদান শুধু ট্রফি জেতা নয়। তার স্থায়িত্ব, ধারাবাহিকতা এবং দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলায় দাপট দেখানো ক্ষমতা তার শ্রেষ্ঠত্বকে সংজ্ঞায়িত করে। রোনালদো জাতীয় দলে নতুন খেলোয়াড়দের পথ দেখানোর জন্য এক আদর্শ উদাহরণ।
রোনালদোর চোখ এখন বিশ্বকাপে। বিদায়ের আগে বিশ্বকাপ জেতাই তার লক্ষ্য। পর্তুগাল দলে রোনালদোর ভূমিকা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি পরামর্শদাতা, অনুপ্রেরণাদাতা এবং গোলদাতাও। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। শেষ ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা ৯৬৪। মাত্র ৩৬ গোল করলেই পেশাদার ফুটবলে হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁবেন আল নাসর তারকা।
সিএ/এমই


