ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বই এখন আর শুধু পড়ার উপকরণে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বই হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক উপাদান। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানো, ব্যক্তিত্ব প্রকাশ এবং রুচির পরিচয় দিতে বই ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। রঙিন কাভার, ভিন্ন মাপ ও নকশার বই ঘরের পরিবেশে যোগ করতে পারে আলাদা মাত্রা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বই এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে চোখে পড়ে। বই চোখে পড়লেই অনেক সময় তা হাতে তুলে নিয়ে দু-এক পাতা উল্টে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। কেবল কেবিনেট বা ড্রয়ারে বই রেখে দিলে সেগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃতই থেকে যায়। তাই খোলা জায়গায় বই সাজিয়ে রাখাই বেশি কার্যকর।
বাড়ির ছোট কোনো কোণ, সিঁড়ির নিচের জায়গা কিংবা চিলেকোঠা ব্যবহার করে সহজেই একটি পড়ার ঘর তৈরি করা যায়। পুরনো বুকশেলফ, আরামদায়ক চেয়ার, সামান্য আলো আর একটি টেবিল থাকলেই ঘরের কোনো এক কোণ হয়ে উঠতে পারে নীরব ও শৈল্পিক পাঠকক্ষ।
পুরো ঘর জুড়েই বিভিন্ন জায়গায় বই রাখা যেতে পারে। নতুন অতিথি এলে তারা যখন ঘরের নানা স্থানে সাজানো বই দেখতে পান, তখন সময় কাটানোর জন্য সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। এতে ঘরের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
যাদের ঘরে জায়গা আছে, তারা মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উঁচু বুকশেলফে প্রিয় বই সাজাতে পারেন। এর সঙ্গে ছোট গাছ, ভাস্কর্য কিংবা আলোকসজ্জা যোগ করলে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। বসার ঘরে ছোট আকারের বুকশেলফ বা বুক কর্নার রাখা যেতে পারে, যেখানে নানা ধরনের বই থাকবে। সোফার পাশের টেবিল বা ঝুড়িতে রাখা কিছু বই ঘরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
ড্রইংরুমে কফি টেবিল বুকস থিম এখন বেশ জনপ্রিয়। অতিথিরা ঘরে ঢুকেই এই বইগুলোর দিকে নজর দেন, যা আলাপচারিতারও একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। একইভাবে বেডসাইড টেবিলে ঘুমানোর আগে পড়ার বই, একটি ছোট বাতি ও ফুলদানি একসঙ্গে রাখলে তৈরি হয় স্নিগ্ধ আবহ।
রঙিন কভার, ভিন্টেজ বই কিংবা নির্দিষ্ট থিম অনুযায়ী বই সাজিয়ে ঘরকে দেওয়া যায় ক্যাফে, লাইব্রেরি বা স্টুডিওর আদল। দেয়ালে ফ্লোটিং শেলফে বই সাজানো কিংবা রঙ অনুযায়ী বই সাজানোর ধারণাও এখন জনপ্রিয়। এতে ঘরে শৃঙ্খলা ও নান্দনিকতার ছাপ পড়ে।
শোবার ঘর, বসার ঘর, অফিস কক্ষ কিংবা লাইব্রেরির জন্য বিভিন্ন ধরনের বুকশেলফ পাওয়া যায়। প্রয়োজন ও জায়গা অনুযায়ী নিজস্ব নকশায় বুকশেলফ তৈরি করাও সম্ভব। সব মিলিয়ে বই দিয়ে ঘর সাজানো শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি ঘরের মানুষের চিন্তা, জ্ঞান ও স্বপ্নেরও নীরব প্রকাশ।
সিএ/এমআর


