বিশ্ব পর্যটন শিল্পে ২০২৬ সাল ঘিরে নতুন আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। পর্যটকরা এখন আর শুধু প্যারিস, লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের মতো পরিচিত শহরে সীমাবদ্ধ থাকছেন না। বরং উদীয়মান ও তুলনামূলক কম পরিচিত দেশগুলোই হয়ে উঠছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র। ইথিওপিয়া থেকে ভুটান, ব্রাজিল থেকে সিশেলস—বিশ্ব মানচিত্রের প্রান্তে থাকা অনেক দেশই এখন পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে।
ইউএন ট্যুরিজমের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটার অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করেছেন দেড়শ’ কোটিরও বেশি মানুষ। আগের বছরের তুলনায় বৈশ্বিক পর্যটক আগমন বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ, যা মহামারির আগের প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে এই রেকর্ড আরও ভাঙতে পারে।
মিসর ২০২৬ সালে পর্যটনের নতুন জোয়ার দেখছে। ২০২৫ সালের তুলনায় দেশটিতে পর্যটক আগমন বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। গিজার পিরামিডের কাছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। নীল নদে বড় জাহাজের বদলে ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকা ‘দাবিয়া’ ব্যবহার এবং ‘বোট অ্যান্ড বাইক ট্যুর’-এর মতো নতুন ধারণাও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
ব্রাজিল ২০২৬ সালের পর্যটন মানচিত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলোর একটি। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। সরকারি ভর্তুকিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুট সম্প্রসারণ, বড় ক্রীড়া ইভেন্ট এবং অনুকূল মুদ্রা বিনিময় হার দেশটিকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়াও পর্যটনে নবজাগরণের পথে। ২০২৫ সালে সেখানে পর্যটক আগমন বেড়েছে ১৫ শতাংশ। ‘ভিজিট ইথিওপিয়া’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে হোটেল বুকিং ও ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হয়েছে। লালিবেলা, আকসুম ও সিমিয়েন পর্বতমালা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সিশেলসও ২০২৬ সালে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। এক সময় শুধু মধুচন্দ্রিমার গন্তব্য হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন পারিবারিক ভ্রমণ ও ওয়েলনেস পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে দেশটি। পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর নীতির কারণে পর্যটকদের কাছে সিশেলসের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
হিমালয়ের কোলে থাকা ভুটান ‘উচ্চ মান, স্বল্প ভিড়’ নীতিতে অটল থেকে ২০২৫ সালে ৪৪ শতাংশ পর্যটক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটির টেকসই উন্নয়ন ফি সরাসরি পরিবেশ ও সামাজিক খাতে ব্যয় হওয়ায় পর্যটনের সঙ্গে উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় থাকছে।
সিএ/এমআর


