ভালোবাসা নিয়ে মানুষের বিশ্বাসের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ‘সোলমেট’ ধারণা। ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘিরে এই বিশ্বাস আরও জোরালো হয়—কোথাও একজন নিখুঁত মানুষ অপেক্ষা করছে, যিনি জন্ম-জন্মান্তরের সঙ্গী। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান এই ধারণাকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করছে।
গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর মিথলজিতে মানুষের হারানো অর্ধেকের গল্প থেকে শুরু করে শেক্সপিয়রের রোমান্টিক সাহিত্য—সব মিলিয়ে সোলমেট ধারণা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে। পরবর্তীতে সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতি এটিকে নিয়তির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পায়ন ও নগরজীবনের একাকীত্ব থেকেই সোলমেট ধারণার বিস্তার ঘটেছে। আধুনিক ডেটিং অ্যাপগুলো এই আবেগকে আরও তীব্র করে তুলছে, যেখানে মানুষ নিখুঁত সম্পর্কের খোঁজে বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে ‘সোলমেট ট্র্যাপ’-এর বিষয়টি। যারা বিশ্বাস করে প্রেম কেবল ভাগ্যের ব্যাপার, তারা সামান্য মতভেদেই হতাশ হয়ে পড়ে। বিপরীতে যারা সম্পর্ককে ধীরে গড়ে তোলার বিষয় হিসেবে দেখে, তাদের সম্পর্ক বেশি স্থিতিশীল হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় তীব্র আকর্ষণকে মানুষ ভালোবাসা মনে করলেও সেটি আসলে পুরনো মানসিক ক্ষতের প্রতিফলন হতে পারে। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক যত্ন, বোঝাপড়া ও ছোট ছোট দৈনন্দিন আচরণের মাধ্যমে।
বিজ্ঞান বলছে, সোলমেট খুঁজে পাওয়ার চেয়ে একসঙ্গে সোলমেট হয়ে ওঠাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিখুঁত মানুষের খোঁজের বদলে বাস্তব সম্পর্ককে লালন করাই দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার ভিত্তি।
সিএ/এমআর


