শিশু ও কিশোরদের মধ্যে অনলাইন গেমের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ফলে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটানো এখন অনেক পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিমিত গেম খেলা বিনোদন কিংবা শেখার মাধ্যম হতে পারে, তবে অতিরিক্ত আসক্তি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা স্মার্টফোনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ সুবিধা ব্যবহার করে সহজেই গেমের সময় সীমিত করতে পারেন।
আইফোন ও আইপ্যাডে থাকা স্ক্রিন টাইম ফিচার এবং অ্যান্ড্রয়েডের ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড পারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে দৈনিক অ্যাপ ব্যবহারের সময় দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এসব সেটিংসের মাধ্যমে গেম বা বিনোদনমূলক অ্যাপের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যায়। একই সঙ্গে নতুন অ্যাপ ইনস্টল বা অননুমোদিত ইন-অ্যাপ কেনাকাটাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
আইফোন বা আইপ্যাডে স্ক্রিন টাইম ব্যবহারের জন্য প্রথমে সেটিংস অপশনে গিয়ে স্ক্রিন টাইম চালু করতে হবে। এরপর অ্যাপ লিমিট নির্বাচন করে গেম বা নির্দিষ্ট অ্যাপ বেছে নিয়ে দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়। প্রয়োজনে ডাউনটাইম অপশন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে সব গেম বন্ধ রাখাও সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংস থেকে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড পারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করতে হয়। ড্যাশবোর্ডে গিয়ে গেম অ্যাপ নির্বাচন করে অ্যাপ টাইমার সেট করা যায়। পাশাপাশি ফোকাস মোড চালু করলে নির্দিষ্ট সময়ে শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়। সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে সময়সীমার প্রয়োজনীয়তা বোঝানো জরুরি। বই পড়া, আউটডোর খেলা কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার মতো বিকল্প বিনোদনও দিতে হবে। নিয়মে দৃঢ় থাকলেও অতিরিক্ত কঠোরতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তারা।
স্মার্টফোনের সঠিক সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে গেম আসক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হয়। এতে শিশুরা পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ডে আরও মনোযোগী হতে পারে।
সিএ/এমআর


