নাবিল (ছদ্মনাম) ডাউন সিনড্রোম নামক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেয়া এক শিশু। পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বাসিন্দা নাবিলের সাধারণ স্কুলে পড়াশোনা সম্ভব হয়নি। তাই মা-বাবা তাকে স্থানীয় ‘আর্থ অব চিলড্রেনস স্কুল’-এ ভর্তি করান। শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাসায় একজন শিক্ষিকার মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যত্নের মাধ্যমে নাবিল এখন নিজের হাতে খেতে পারে, প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারে এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
ডাউন সিনড্রোম একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য, যেখানে ২১তম ক্রোমোজমের অতিরিক্ত কপি থাকে। ট্রাইসোমি ২১ নামেও পরিচিত। বিশ্বে প্রতি ৭০০ শিশুর মধ্যে একজন এই বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০০০ শিশু জন্মে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জটিলতা দেখা দেয়। সাধারণত চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল, ছোট নাক ও কান, দুর্বল মাংসপেশি এবং চোখে বাঁকানো আকৃতি দেখা যায়। আইকিউ সাধারণত গড়ের নিচে থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষার ধারা অনুসরণে ধীর।
ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে জন্মগত হৃদরোগ, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, অন্ত্রের জটিলতা এবং থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। তবে যত্ন, থেরাপি এবং সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ড ও হরমোন টেস্টের মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম শনাক্ত করা সম্ভব। গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের মধ্যে শনাক্তকরণ পরিবারকে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। বাংলাদেশে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি’ শিশুদের অধিকার ও উন্নয়নে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডাউন সিনড্রোম শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল ও থেরাপি সেন্টার অপরিহার্য। পরিবারের ধৈর্য, যত্ন ও উৎসাহ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সিএ/এমআর


