বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পদ্ধতিতে না খেলে এসব খাবার থেকে প্রত্যাশিত উপকার নাও পাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালরির কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বাদাম ও বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদাম কিংবা বীজ মূল খাবার হিসেবে নয়, বরং স্ন্যাকস হিসেবে গ্রহণ করাই ভালো। অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভালো উৎস হওয়ায় এগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও ক্যালরির পরিমাণ কম নয়। সারা দিনে বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ মিলিয়ে এক মুঠো খাওয়াই যথেষ্ট।
কেবল একটি ধরনের বাদাম বা বীজ না খেয়ে কয়েকটি ভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ বেছে নিলে শরীর পায় নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান। চাইলে একসঙ্গে কয়েক ধরনের বাদাম ও বীজ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সারা দিনের এক মুঠো বাদাম কয়েক ভাগে ভাগ করেও খাওয়া যায়।
বাদাম সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি টক দই, ওটস কিংবা স্মুদির সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। হজমের সমস্যা থাকলে কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম সারা রাত ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আখরোট খাওয়ার ক্ষেত্রেও একইভাবে ভিজিয়ে নেওয়া ভালো।
বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানা জরুরি। চিয়া সিড অবশ্যই ভিজিয়ে খেতে হবে, শুকনা অবস্থায় নয়। তিসির বীজ গুঁড়া করে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। মিষ্টিকুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখীর বীজ শুকিয়ে কাঁচা কিংবা অল্প আঁচে ভেজে খাওয়া যায়।
বাদাম ও বীজ খাওয়ার জন্য বেলা ১১টার দিকে, বিকেল বা সন্ধ্যার সময় সবচেয়ে উপযোগী। এতে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে চিয়া সিড ভেজানো পানি সকালে খালি পেটে খাওয়াই ভালো।
বাদাম ও বীজ ভাজার সময় তেল ব্যবহার না করা, লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ম মানলে বাদাম ও বীজ হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিএ/এমআর


