পালং শাক দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি হিসেবে পরিচিত। স্মুদি, সালাদ, রান্না করা তরকারি কিংবা স্যুপ—বিভিন্নভাবে এই শাক মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে অনেক উপকারিতা থাকলেও পালং শাক কাঁচা বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু ক্ষেত্রে শরীরের ওপর চাপ পড়তে পারে। সঠিকভাবে ও পরিমিতভাবে খেলে এই শাক শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পালং শাকে রয়েছে নন-হিম আয়রন, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পালং শাক খেলে রক্তস্বল্পতা কমতে পারে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। আয়রনের ঘাটতি পূরণে এটি একটি সহজলভ্য খাদ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে।
হজমশক্তি উন্নত করতেও পালং শাক কার্যকর। এতে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় প্রাকৃতিক তন্তু অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
পালং শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। লুটেইন, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং আলফা-লাইপোয়িক অ্যাসিড শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। এতে কোষের ক্ষয় কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও পালং শাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ভিটামিন কে ও ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়ামের সঠিক ব্যবহারে সহায়তা করে এবং হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই শাক খেলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমে।
এ ছাড়া পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যতালিকায় পালং শাক রাখলে সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকা সহজ হয়।
সিএ/এমআর


