ডিম ছোট-বড় সবারই জনপ্রিয় খাবার। তবে ওজন কমানো বা শরীর গঠনের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত, নাকি শুধু সাদা অংশই যথেষ্ট। অনেকেই সম্পূর্ণ তথ্য না জেনে কুসুম বাদ দেন। অথচ ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ—দুটিতেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিনের দিক থেকে ডিমের সাদা অংশ এগিয়ে। একটি ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা মোট প্রোটিনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। এজন্য শরীরচর্চা করা মানুষদের মধ্যে সাদা অংশ খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
ডিমের সাদা অংশে ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম। ফলে এটি অতিরিক্ত ক্যালোরি বাড়ায় না এবং মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে। যারা ওজন কমাতে চান বা লো-ফ্যাট ডায়েট অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এটি উপযোগী খাবার।
অন্যদিকে, কুসুম আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে। পাশাপাশি আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালশিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে। এসব উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকের ধারণা, কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সীমিত পরিমাণে কুসুম খেলে সুস্থ মানুষের তেমন ক্ষতি হয় না। বরং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কোলেস্টেরল বৃদ্ধির বড় কারণ।
যাদের লক্ষ্য ওজন কমানো বা উচ্চ প্রোটিন গ্রহণ, তারা সাদা অংশ বেশি খেতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ পুষ্টি পেতে চাইলে পুরো ডিম খাওয়াই বেশি উপকারী। যাদের হৃদরোগ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


