নেত্রকোনার সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীর প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর নাম মো. ইমরান হোসেন।
২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিও রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসে এক ঠিকাদারের সঙ্গে ঘুষের টাকার অঙ্ক নিয়ে দর-কষাকষি করছেন ইমরান হোসেন। এক পর্যায়ে ঠিকাদার তাকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল, মোট ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে দাবি করা টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে টাকার বান্ডিলটি একাধিকবার ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে মারেন। পরে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে তিনি তা গ্রহণ করে নিজের প্যান্টের পকেটে রাখেন।
জানা যায়, সদর উপজেলার উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিলসংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মামুন ওই টাকা দিচ্ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনকে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে একজন কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তবে মো. ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হয়, কিন্তু তিনি সেখানে যোগদান না করে এখনো সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সদর উপজেলার গজীনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। একইভাবে ভিডিওতে থাকা ঠিকাদার মামুনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান বলেন, “ভিডিওটির বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নেত্রকোনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিএ/এএ


