ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা ও মনোযোগের ঘাটতিতে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধ নয়, খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। এ বিষয়ে চ্যানেল ২৪ অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহমুদা আফরিন। তিনি জানান, সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে মস্তিষ্ক শান্ত রাখা, স্ট্রেস কমানো এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখা সম্ভব। এই খাদ্যব্যবস্থাকেই বলা হয় ‘মস্তিষ্ক শান্ত করার ডায়েট’ বা ব্রেন কামিং ডায়েট।
পুষ্টিবিদের ভাষায়, এই ডায়েট নার্ভ সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায় এবং স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ধীরে ধীরে মানসিক অস্থিরতা কমে আসে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত করতেও সহায়ক।
এই ডায়েটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক খাবার নির্বাচন। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন লাল চাল, আটার রুটি ও ওটস ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। এতে হঠাৎ ক্লান্তি বা মুড পরিবর্তনের ঝুঁকি কমে।
ভালো ফ্যাটও মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য। সামুদ্রিক মাছ ও বাদামে থাকা ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড নার্ভ সিগন্যাল ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং ডিপ্রেশন ও স্ট্রেস কমায়। ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, কলা ও কুমড়ার বীজ শরীর ও মনকে শিথিল রাখতে সহায়তা করে।
বি-ভিটামিনসমৃদ্ধ ডাল, ডিম ও দই নার্ভ সিস্টেমের কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে। পাশাপাশি প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পর্যাপ্ত পানি পান করলে মাথাব্যথা ও ক্লান্তি কমে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
পুষ্টিবিদরা অতিরিক্ত চা-কফি, চিনি, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর পরামর্শ দেন। এগুলো নার্ভ সিস্টেমকে উত্তেজিত করে ঘুম ও মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এই ডায়েট বিশেষভাবে উপকারী দীর্ঘদিনের স্ট্রেসে ভোগা মানুষ, ঘুমের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি, পরীক্ষার্থী, হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা নারী এবং মাইগ্রেনপ্রবণদের জন্য। তবে এটি কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ বা ওষুধের বিকল্প নয়—সহায়ক একটি জীবনধারা মাত্র।
সিএ/এমআর


