দুর্ঘটনার আগে চালকের সঙ্গে যাত্রীর তর্ক, ছিলেন ‘অমনোযোগী’
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাস দুর্ঘটনায় আগুন লেগে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর বাসটি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বাসচালকের সঙ্গে এক যাত্রীর তর্ক-বিতর্ক হয়। এ সময় চালক অমনোযোগী হয়ে পড়েন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মামদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, দাউদকান্দির আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এক যাত্রী বাসে ওঠেন। তিনি কুমিল্লায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নামতে চাইলেও চালক সেখানে বাস থামাতে রাজি হননি। এ নিয়ে চালক ও তাঁর সহকারীর সঙ্গে ওই যাত্রীর কথা–কাটাকাটি হয়।
মামদ নেয়ামত উল্লাহ আরও জানান, এর পর মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অতিক্রম করার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। বাসের আরও তিন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাঁদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত চারজনের মধ্যে দুইজন শিশু বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, নিহত ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহগুলো শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিএ/জেএইচ


