সৌদি আরবে পর্যটন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শুধু পর্যটন খাতেই কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষের। এর বড় অংশই প্রবাসী কর্মী, যা শ্রমবাজারে বিদেশিদের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
সৌদি পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পর্যটন খাতে মোট ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫২০ জন নিয়োগ পেয়েছেন, যা এই খাতে কর্মরত মোট শ্রমশক্তির ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পর্যটন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মিলিয়ে কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯ হাজার ৬৯১ জনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি হসপিটালিটি ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বছরওয়ারি ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে ৫ হাজার ৬২২টিতে পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধি পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
সৌদি সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতে ১৬ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বছরে ১৫ কোটি দর্শনার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালেই ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়াকে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই উত্থান বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক। ২০২৫ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী, যা এক বছরে কোনো একক দেশে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জনশক্তি প্রেরণের রেকর্ড। এসব কর্মীর একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সৌদি পর্যটন খাতে যুক্ত রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। ফলে সৌদি আরবের পর্যটন খাতের এই সম্প্রসারণ প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
সিএ/জেএইচ


