লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসেম। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, তাবাতাবাইকে হত্যা ‘স্পষ্ট আগ্রাসন ও নৃশংস অপরাধ’। এই হত্যার জবাব দেওয়ার অধিকার হিজবুল্লাহর রয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত হন। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, আমরা এই হত্যার জবাব দেব, কখন জবাব দেওয়া হবে সময় আমরাই নির্ধারণ করব। ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে— এ সম্ভাবনা আছে, আবার নাও থাকতে পারে। তিনি লেবাননকে ইসরায়েলের মোকাবিলায় নিজস্ব সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পোপ লিওর আসন্ন লেবানন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি তারা মেনে চলছে, তবে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নাঈম কাসেম জানান, তাবাতাবাই চারজন সহযোগীকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছিলেন— তখনই তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ মহাসচিবের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আড্রেয়ি জানান, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অস্ত্র জব্দে লেবানন সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত। তার অভিযোগ, হিজবুল্লাহ এখনও গোপনে অস্ত্র মজুত করছে এবং সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের লেবাননে অব্যাহত হামলা এবং দক্ষিণের পাঁচটি স্থানে সেনা মোতায়েন রাখার কারণে তারা কোনোভাবেই নিরস্ত্র হতে রাজি নয়।
ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈরুতেও হামলা চালানো হয়েছে। তাবাতাবাই হত্যার আগে দীর্ঘদিন রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা হয়নি। এছাড়া গত সপ্তাহে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এমআরএফ


