কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সিরিয়া সরকার ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুই পক্ষের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়, যা সিরিয়ার চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইউফ্রেতিস নদীর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসডিএফ তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে কুর্দি বাহিনীর একটি অংশ সিরীয় সেনাবাহিনীর কাঠামোর মধ্যে একীভূত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এসডিএফের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসডিএফ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে সামরিক, নিরাপত্তা ও বেসামরিক উচ্চপদে নিয়োগের জন্য তাদের নেতৃত্বের একটি তালিকা প্রস্তাব করবে। এতে ‘জাতীয় অংশীদারিত্ব’ প্রতিষ্ঠা পাবে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত ক্রসিং, তেল ও গ্যাসক্ষেত্রসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে সিরিয়া সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে গত মার্চে এ ধরনের একটি সমঝোতা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেন, এই চুক্তির ফলে আল-হাসাকা, দেইর আজ-জোর ও রাক্কা প্রদেশের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ফিরে আসবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদারে সহায়ক হবে।
যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণের এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই সমঝোতা সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
একই দিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা টেলিফোনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, দুই নেতা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সিরীয় প্রশাসনের প্রতি শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে আসছে সৌদি আরব।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সিএ/এসএ


