বিশাল মহাবিশ্বে মানুষের বাইরে অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না—এই প্রশ্ন বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করে আসছে। একসময় আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহ সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে ৬ হাজারের বেশি গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। আরও বহু গ্রহ এখনো পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। এসব গ্রহের মধ্যে বেশ কয়েকটি পৃথিবীর মতো আকারের এবং তাদের নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে তরল পানির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দূরবর্তী এসব গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে প্রাণের রাসায়নিক চিহ্ন খুঁজছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবী সদৃশ গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা যাচাই করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো জটিল। এ জন্য নাসার বিজ্ঞানীরা সাত স্তরের একটি বৈজ্ঞানিক কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যা অনুসন্ধানের অগ্রগতি ধাপে ধাপে নির্ধারণে সহায়ক হবে। এই কাঠামোর মাধ্যমে বোঝা যাবে, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা কতটা এগিয়েছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো গ্রহে পানি বা জৈব যৌগের উপস্থিতি পাওয়া মানেই সেখানে প্রাণ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বরং একাধিক প্রমাণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।
মঙ্গল গ্রহে বর্তমানে পারসিভিয়ারেন্স রোভার নমুনা সংগ্রহ করছে, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীতে এনে পরীক্ষা করা হবে। একাধিক গবেষণায় একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেলে সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও মিথেনের উপস্থিতিকে সম্ভাব্য প্রাণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই গ্যাসগুলো প্রাকৃতিকভাবেও তৈরি হতে পারে, তাই নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে অন্যান্য সম্ভাবনাও যাচাই করা জরুরি।
এ ছাড়া বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা ও শনির উপগ্রহ টাইটান নিয়ে পরিচালিত ভবিষ্যৎ মিশনগুলো প্রাণের অনুকূল পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব গবেষণা মহাবিশ্বে প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে মহাবিশ্বে আমরা একা কি না। তবে প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সূত্র: নাসা
সিএ/এমআর


