বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে মানবজীবন যেমন সহজ ও গতিশীল হয়েছে, তেমনি কিছু উদ্ভাবন ইতিহাসে ব্যর্থতা কিংবা নেতিবাচক প্রভাবের উদাহরণ হয়ে আছে। সব আবিষ্কার যে মানবকল্যাণ বয়ে এনেছে, তা নয়—কিছু উদ্ভাবন ত্রুটিপূর্ণ নকশা, পরিবেশগত ক্ষতি বা বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারার কারণে সমালোচিত হয়েছে। বিবিসি সায়েন্স ফোকাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইতিহাসের এমন ১০টি আলোচিত ব্যর্থ উদ্ভাবন তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই রয়েছে প্যারাস্যুট কোট। ১৯১২ সালে ফরাসি দরজি ফ্রাঞ্জ রাইখেল্ট পাইলটদের জন্য এমন পোশাক তৈরি করেন, যা প্যারাস্যুট হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। নিজের আবিষ্কারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি প্যারিসের আইফেল টাওয়ার থেকে লাফ দেন। কিন্তু নকশাগত ত্রুটির কারণে তিনি মাটিতে পড়ে নিহত হন। যদিও এই ঘটনা ভবিষ্যতের উয়িং স্যুট বা ইজেক্টর সিট উন্নয়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে।
কফি পড বা ক্যাপসুল কফি তৈরিকে সহজ করলেও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর উদ্ভাবক জন সিলভান নিজেও পরবর্তীতে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যা মাটিতে মিশতে শত শত বছর সময় নেয়।
১৯৮৫ সালে বাজারে আসা সিনক্লেয়ার সি-৫ বৈদ্যুতিক ট্রাইসাইকেল নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে জনপ্রিয়তা পায়নি। কম উচ্চতা ও সীমিত গতির কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে বর্তমান বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে এমন ধারণা নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে পারত।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিরক্তির অন্যতম কারণ পপ-আপ বিজ্ঞাপন। এর উদ্ভাবক ইথান জুকারম্যান পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। মূল কনটেন্ট থেকে আলাদা করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উদ্দেশ্য থাকলেও বাস্তবে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জনপ্রিয় জেপলিন এয়ারশিপ হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারের কারণে বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ১৯৩৭ সালের হিন্ডেনবার্গ বিপর্যয়ে বহু প্রাণহানি ঘটে, যা এ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলে দেয়। বর্তমানে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে হিলিয়াম ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
সেগা ড্রিমকাস্ট গেমিং কনসোল প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। বিশেষ করে থার্ড-পার্টি গেমের ঘাটতি এবং সনি প্লে-স্টেশন ২-এর জনপ্রিয়তার কারণে এটি ব্যর্থ হয়।
চুইংগাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হলেও এর উপাদান পলিভিনাইল অ্যাসিটেট পরিবেশ দূষণের কারণ। এটি পরিষ্কার করাও কঠিন ও ব্যয়বহুল। ফলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরির উদ্যোগ চলছে।
সনির বিটাম্যাক্স ভিডিও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও উচ্চ মূল্যের কারণে জনপ্রিয়তা হারায় এবং ভিএইচএস ফরম্যাটের কাছে পরাজিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে এর উৎপাদন বন্ধ করা হয়।
প্লাস্টিক ক্যারিয়ার ব্যাগ একসময় পুনঃব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও বাস্তবে একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে এটি বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
সবশেষে অ্যাপল নিউটন মেসেজ প্যাড, যা হাতে লেখা শনাক্ত করতে সক্ষম ট্যাবলেট হিসেবে বাজারে এলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও উচ্চ মূল্যের কারণে ব্যর্থ হয়। ১৯৯৭ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
সিএ/এমআর


