ব্যায়াম করার সময় হার্টবিট কত পর্যন্ত বাড়তে পারে—এটি নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। জিমের ট্রেডমিল বা এক্সারসাইজ বাইকের স্ক্রিনে সাধারণত একটি হিসাব দেওয়া থাকে, যেখানে বলা হয় ২২০ থেকে বয়স বাদ দিলে সর্বোচ্চ হার্টরেট পাওয়া যায়। অর্থাৎ ৩০ বছর বয়সী একজন মানুষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার্টরেট দাঁড়ায় মিনিটে ১৯০ বিট।
এই সূত্রটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানও এটিকে গ্রহণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই বয়সের দুইজন মানুষের সর্বোচ্চ হার্টরেট একেবারেই ভিন্ন হতে পারে, তাই এই সরল সূত্র সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সর্বোচ্চ হার্টরেট জানা ব্যায়ামের পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ হার্টরেটের ৭০ শতাংশের মধ্যে ব্যায়াম করলে শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ে। এর বেশি তীব্রতায় ব্যায়াম করলে শরীর অক্সিজেন ছাড়াই শক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ায়।
ব্যায়ামের সময় হার্ট দ্রুত স্পন্দিত হয়, যাতে পেশিতে বেশি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে। তবে হার্টবিট খুব বেশি বেড়ে গেলে দুই বিটের মধ্যবর্তী সময় কমে যায়, ফলে হার্টের প্রকোষ্ঠগুলো পর্যাপ্ত রক্তে পূর্ণ হওয়ার সুযোগ পায় না। এতে প্রতিটি স্পন্দনে কম রক্ত পাম্প হয়।
হার্টের প্রাকৃতিক পেসমেকার সাইনোঅ্যাট্রিয়াল নোড নির্দিষ্ট সীমার বেশি দ্রুত সংকেত পাঠাতে পারে না, ফলে হৃৎস্পন্দনেরও একটি সর্বোচ্চ সীমা থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম বিশ্রামের সময়কার হার্টরেট কমাতে সাহায্য করলেও সর্বোচ্চ হার্টরেট সহজে পরিবর্তন করা যায় না।
১৯৭১ সালের গবেষণা থেকে প্রচলিত ২২০-বয়স সূত্রটি এসেছে, তবে আধুনিক গবেষণায় এর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তানাকা সূত্র প্রস্তাব করা হয়, যেখানে ২০৮ থেকে ০.৭ গুণ বয়স বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ হার্টরেট নির্ধারণ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে নির্ধারিত হার্টরেট বাস্তবের তুলনায় মিনিটে প্রায় ২০ বিট পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট সূত্রের ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো একটি পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করা এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সিএ/এমআর


