ইসলামে সময়কে মানুষের জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে সময়ের যথাযথ ব্যবহার, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং ইবাদতের মাধ্যমে জীবনকে সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে একজন মুমিন জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা ও বরকত অর্জন করতে পারেন।
সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনায় ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথমত, ফজরের পরের সময়কে কাজে লাগানোর ওপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ সময়কে দিনের সবচেয়ে বরকতময় ও উৎপাদনশীল সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) উম্মতের জন্য দোয়া করে বলেছেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য তার সকালের সময়ে বরকত দান করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)
দ্বিতীয়ত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে দৈনন্দিন রুটিনের কেন্দ্রবিন্দু করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
তৃতীয়ত, অলসতা ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের ওপর ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ অযথা পিছিয়ে দেওয়া মানুষের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এ কারণেই মহানবী (সা.) নিয়মিত দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি…’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৯২)
চতুর্থত, সময়ের জবাবদিহির মানসিকতা ধারণ করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন কোনো বান্দার চরণ দুটি নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—সে তার জীবনটা কোন কাজে অতিবাহিত করেছে এবং তার যৌবনকাল কোন কাজে ক্ষয় করেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৬)
পঞ্চমত, জীবনের কাজগুলোতে অগ্রাধিকার নির্ধারণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজকে আগে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করতে নিরুৎসাহিত করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জন করাই একজন মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনাও জীবনে বরকত বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। পাপ ও অবাধ্যতা মানুষের জীবনের বরকত কমিয়ে দেয়, আর ইস্তিগফার আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ লাভের পথ উন্মুক্ত করে।
সিএ/এমআর


