পবিত্র কোরআনে নবী ইয়াকুব (আ.)-এর জীবনকে একজন দায়িত্বশীল, প্রজ্ঞাবান ও স্নেহশীল পিতার অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর জীবন থেকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য জানা যায়, যা আজকের সময়ের অভিভাবকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো হালাল উপার্জন ও দায়িত্ববোধ। নবী ইয়াকুব (আ.) জীবিকা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করতেন। মরুভূমিতে মেষ চরানো ছিল তাঁর পেশা। পরিবারের প্রয়োজন পূরণে তিনি সব সময় দায়িত্বশীল ছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময়ও তিনি সন্তানদের খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মিসরে পাঠিয়েছিলেন, যাতে পরিবার সংকট মোকাবিলা করতে পারে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল সন্তানদের প্রতি অবিরাম কল্যাণকামিতা। সন্তানদের ভুল, অবাধ্যতা কিংবা অন্যায়ের পরও তিনি তাদের জন্য শুভকামনা করা ও সঠিক পথের উপদেশ দেওয়া থেকে বিরত হননি। একজন পিতার দায়িত্ব শুধু ভরণপোষণ নয়, বরং সন্তানদের নৈতিক বিকাশেও সচেষ্ট থাকা—এ শিক্ষাই তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায়।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ভাইরা তাঁর জামায় কৃত্রিম রক্ত মেখে নেকড়ের আক্রমণের গল্প বললেও নবী ইয়াকুব (আ.) বিষয়টি সহজভাবে বিশ্বাস করেননি। তিনি পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করেন এবং ধৈর্য ধারণ করেন। এতে একজন অভিভাবকের পর্যবেক্ষণশক্তি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য ছিল সহমর্মিতা ও সংলাপের মানসিকতা। তিনি সন্তানদের সঙ্গে আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ ভাষায় কথা বলতেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। কোরআনে তাঁর সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ সম্বোধনের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা পরিবারে সুস্থ যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য ছিল ক্ষমাশীলতা। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অন্যায়ের পরও সন্তানরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তিনি তাদের প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বলেছিলেন, ‘আমি শিগগিরই আমার পালনকর্তার কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯৭-৯৮)
নবী ইয়াকুব (আ.)-এর জীবন থেকে দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য, প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতার যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা বর্তমান সমাজেও আদর্শ পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সিএ/এমআর


