রমজানের সময় প্রবাসে একাকী থাকা অনেকের জন্য মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। ছোট একটি ঘর, বাইরে থেকে কেনা খাবার আর মোবাইলের স্ক্রিনে পরিবারের ইফতারের দৃশ্য—এই বাস্তবতা অনেক প্রবাসীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা। পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর আবার নেমে আসে নিস্তব্ধতা, যা এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করে।
প্রবাসজীবনে ‘ঘর’ শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা। ইফতারের সময় মায়ের রান্নার ঘ্রাণ, পরিবারের সবার সঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ বা আজানের আগের ব্যস্ততা—এসব থেকে দূরে থাকাটা স্বাভাবিকভাবেই একাকীত্বের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এমন একাকীত্ব কোনো দুর্বলতা নয়। বরং পরিচিত সামাজিক পরিবেশ থেকে দূরে থাকার কারণে এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবাসীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ কমে গেলে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই এই অনুভূতিকে স্বীকার করে নেওয়া এবং নিজেকে দোষারোপ না করা মানসিক স্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় অনুশীলন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা মানুষের মনে প্রশান্তি আনে। প্রবাসে সহজভাবে ইবাদতকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে। যেমন—ফজরের পর কিছু সময় নিজের মনের কথা আল্লাহর কাছে বলা, প্রতিদিন অল্প হলেও কোরআনের একটি আয়াত অর্থসহ পড়া এবং ছোট ছোট নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
ছোট ছোট অভ্যাসও মানসিক সুস্থতায় বড় প্রভাব ফেলে। নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, নিজে সাহ্রি প্রস্তুত করা, ইফতারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা কিংবা কিছু সময়ের জন্য মোবাইল থেকে দূরে থাকা—এসব অভ্যাস একাকীত্ব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের জীবনের সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা না করাই মানসিক প্রশান্তির জন্য জরুরি।
এছাড়া প্রবাসে সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সহকর্মী, প্রতিবেশী বা স্থানীয় মসজিদের পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে একাকীত্ব অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় ও পরিচিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় মানসিক স্বস্তি এনে দেয়।
প্রযুক্তি প্রবাসীদের জন্য বড় সহায়ক হলেও এর ব্যবহার সচেতনভাবে করা প্রয়োজন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার নির্দিষ্ট সময় রাখা এবং অতিরিক্ত তুলনামূলক চিন্তা এড়িয়ে চললে মানসিক চাপ কমে।
রমজান শুধু খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আত্ম-অনুসন্ধানের সময়। প্রবাসে একা থাকলেও এই সময়টিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


